মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

জনবল জনবল

ইউনিয়ন পরিষদের কাজ বা দায়-দায়িত্ব
স্থানীয় মানুষের সমস্যার  সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকারের ভূমিকা প্রধানত; দু প্রকারের একটি হলো সেবা প্রদানকারী ভুমিকা যেমন রিলিফ বিতরণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিচার সালিশ করা এবং অপরটি হলো সচেতনায়নকারীর ভূমিকা৷ ১৯৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা ও কাজকে প্রধানত ৬ টি ভাগে ভাগ করা যায়৷ যেমন:


পুলিশি ও প্রতিরক্ষা দায়িত্ব;
জননিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসকের সম্মতি সাপেক্ষে যে কোনও পুলিশি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ৷ ইউনিয়নের আওতাভুক্ত এলাকার জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচত সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারিন৷ গ্রাম পুলিশের ব্যবস্থা ছাড়াও পুলিশি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ৷ গ্রাম পুলিশের ক্ষমতা ও কার্যাবলী সুনির্দিষ্ট করার মধ্য দিয়ে এবং বিধি অনুযায়ী পরিচালনা করা হলে জননিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চত করা সম্ভব (ধারা ৩১)৷

রাজস্ব ও প্রশাসনিক দায়িত্ব:
রাজস্ব ও প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো;

ক. ইউনিয়নে কর্মরত রাজস্ব আদায়ের কাজে নিয়োজিত সকল সরকারি কর্মচারীকে সহযোগিতা করা;
খ. জেলা প্রশাসক যেভাবে চাইবেন সেভাবে রেকর্ডপত্র প্রণয়ন, জরিপ ও শস্য তদারকি;
গ. কোন অপরাধ সংঘটিত হলে এবং ইউনিয়নে কোনও দুষ্কৃতিকারীর উপস্থিতি দেখা গেলে তা পুলিশকে জানানো এবং অপরাধের তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য সহযোগিতা করা;
ঘ. কোন সরকারি সম্পত্তি বেদখল, ক্ষতিগ্রস্থ হলে দ্রুত তা কর্তৃপক্ষকে জানানো;
ঙ. সরকার বা অন্যান্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে প্রচারমূলক কাজে সাহায্য করা;
চ. সরকারি কর্মকর্তাদেরকে তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা৷ তবে কোন কর্মকর্তার কাজে হস্তক্ষেপ বা ব্যাঘাত সৃষ্টি করা যাবে না(ধারা৩২)৷

৩.উন্নয়নমুলক দায়িত্ব:
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু৷ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে ব্যাপক ক্ষমতা৷ প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ তার ইউনিয়নের কৃষি, শিল্প, সমাজ উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবে (ধারা ৩৩)৷

৪.হস্তান্তরিত দায়িত্ব:
বিধিমালা অনুযায়ী সরকার যে কোন সময় ইউনিয়ন পরিষদকে যে কোন দায়িত্ব প্রদান করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও দায়িত্ব সরকার প্রত্যাহার করে নিতে পারে (ধারা ৩৫)৷

৫.আদালত বা বিচার সংক্রান্ত দায়িত্ব:
পদাধিকারবলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা-মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করেন৷ ফলে জনসাধারণ থানা ও জেলা আদালতে মামলা পরিচালনার বিভিন্ন অসুবিধা থেকে রেহাই পান৷ ১৯৭৬ সালের গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ তফসিলে (প্রথম খন্ডে ফৌজদারী মামলা ও দ্বিতীয় খন্ডে দেওয়ানী মামলা) গ্রাম আদালতে বিচারযোগ্য মামলাসমূহের ঊল্লেখ রয়েছে৷ এছাড়া চেয়ারম্যানের পাশাপাশি মেম্বাররাও ছোট ছোট ঝগড়া বিবাদ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যক্তিগত উদ্যেগে সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তি করে থাকেন৷

৬.নাগরিক দায়িত্ব:
ইউনিয়ন পরিষদের প্রধানত প্রথম তফসিলের ১ম অংশে উল্লিখিত ৩৮টি কাজ করে থাকেন যা ঐচ্ছিক কাজ  এবং ১০ টি আবশ্যিক কাজ করে থাকেন (ধারা ৩০)৷

ইউনিয়ন পরিষদের ১০টি আবশ্যিক কাজ

  • আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে প্রশাসনকে সহায়তা;
  • অপরাধমূলক কার্যকলাপ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চোরাচালান বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • কৃষি, বন, মত্‌স্য, গবাদি পশু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কুটির শিল্প, যোগাযোগ, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং জনগনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতিকল্পে যা যা প্রয়োজন তা করা;
  • পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা;
  • স্থানীয় সম্পদের উন্নয়ন ও সদ্ব্যবহার;
  • সরকারি সম্পত্তি যেমন সড়ক, সেতু, খাল, বাঁধ, টেলিফোন ও বিদ্যুত্‍‌ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ;
  • ইউনিয়ন পর্যায়ে সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মতত্‌পরতা পর্যালোচনা করে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সুপারিশ পেশ করা;
  • স্যানিটারি পায়খানা স্থাপনের জন্য জনসাধারণের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি;
  • জণ্ম, মৃত্যু, অন্ধ, ভিক্ষুক ও দুঃস্থ ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য রেকর্ডভুক্ত করা এবং
  • সকল প্রকারের শুমারী পরিচালনা করা৷

ইউনিয়ন পরিষদের ৩৮টি সাধারণ বা ঐচ্ছিক কার্যাবলী

১. জনপথ ও রাজপথের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ;

২. সরকারি স্থান, উম্মুক্ত জায়গা, উদ্যান ও খেলার মাঠ এর ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ;

3.জনপথ, রাজপথ ও সরকারি স্থানে আলো জ্বালানো;

4. সাধারণভাবে গাছ লাগানো ও সংরক্ষণ এবং বিশেষভাবে জনপথ ও রাজপথ ও সরকারি জায়গায় গাছ লাগানো এবং সংরক্ষণ


Share with :

Facebook Twitter